১. ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১, ধারাবাহিক আলোচনা; ১ম ধাপ- ধারা ১ থেকে ধারা ৬
১৯৯১
সনের ১৪ নং আইন হচ্ছে ব্যাংক-কোম্পানী আইন,
১৯৯১, যাতে একটি ব্যাংকের জন্ম থেকে বেড়ে
উঠা, তার চালচলন ও বিসৃতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থায় তার আচরণ, তার ভিতর ধারন করা
প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ধারাবাহিক সহাবস্থান ও সমৃদ্ধি ইত্যাকার সম্পর্কে বিশদ
বর্ণনা নিহিত।
ব্যাংকারদের জ্ঞান সমৃদ্ধির অংশ হিসেবে উক্ত আইনের ধারাবাহিক
আলোচনার ১ম ধাপ। যেখানে আইনের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর কিভাবে
আইনে প্রদান করা হয়েছে তারই ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। আজকের আলোচনায় ধারা ১
থেকে ধারা ৬ পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
প্রশ্ন সমুহঃ
১. খেলাপী ঋণ
গ্রহীতা কাদের
কে বলা হয়? স্বার্থ
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বলে কখন গণ্য করা হবে?
২. জামানতী ঋণ
বা অগ্রিম কাকে বলা হয় এবং কি শর্তে বলা হয়?
৩. ব্যাংক ব্যবসা কাকে বলে?
৪. মুদারাবা ও মুশারিকা বিনিয়োগ কাকে বলে?
৫. ব্যাংক কোম্পানী আইনের সাথে ব্যাংক
কম্পানীর সংঘ স্মারকের অসামঞ্জস্য বিধানাবলীর
গ্রহণযোগ্যতা!
১. খেলাপী ঋণ গ্রহীতা কাদের কে বলা হয়? স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বলে কখন গণ্য করা হবে?
ধারা ৫ এর (গগ) অনুযায়ী
‘‘খেলাপী ঋণ গ্রহীতা’’
অর্থ কোন দেনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী যাহার নিজের বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত অগ্রীম, ঋণ বা অন্য কোন আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ বা উহার উপর অর্জিত সুদ বা উহার মুনাফা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার
৬ (ছয়) মাস
অতিবাহিত হইয়াছে;
ব্যাখ্যা।- এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ব্যক্তি বা,
ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক না হইলে অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানে তাহার বা উহার শেয়ারের অংশ ২০%
এর অধিক না
হইলে অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামিনদাতা না হইলে,
উক্ত প্রতিষ্ঠান তাহার বা উহার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে না;]
২. জামানতী ঋণ বা অগ্রিম কাকে বলা হয় এবং কি শর্তে বলা হয়?
ধারা ৫ এর (ঙ) অনুযায়ী
“জামানতী ঋণ বা অগ্রিম’’ অর্থ সেই ঋণ বা অগ্রিম যাহা সম্পদের জামানত গ্রহণ করিয়া প্রদান করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ণীত উক্ত সম্পদের বাজার
মূল্য কোন সময়েই
ঋণের পরিমাণের চাইতে কম হয়
না, এবং
‘‘অজামানতী ঋণ বা অগ্রিম’’
অর্থ সেই ঋণ বা অগ্রিম বা উহার ঐ
অংশ যাহার বিপরীতে কোন জামানত গ্রহণ করা হয় না;]
৩. ব্যাংক ব্যবসা কাকে বলে?
ধারা ৫ এর (ত) অনুযায়ী
“ব্যাংক ব্যবসা” অর্থ কর্জ প্রদান বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে জনসাধারণের নিকট হইতে টাকার এইরূপ আমানত গ্রহণ করা, যাহা চাহিবামাত্র বা অন্য কোনভাবে পরিশোধযোগ্য এবং চেক, ড্রাফ্ট,
আদেশ বা অন্য কোন পদ্ধতিতে প্রত্যাহারযোগ্য;
৪. মুদারাবা ও মুশারিকা বিনিয়োগ কাকে বলে?
ধারা ৫ এর (থথথ) অনুযায়ী
“মুদারাবা”
অর্থ এমন চুক্তি যাহার শর্তানুসারে ইসলামী [শরীয়াহ]
মোতাবেক পরিচালিত কোন ব্যাংক কোন কিছুতে মূলধন
যোগান দেয় এবং
গ্রাহক উহাতে দক্ষতা, প্রচেষ্টা,
শ্রম ও প্রজ্ঞা নিয়োজিত করে;
ধারা ৫ এর (থথথথ) অনুযায়ী
“মুশারিকা”
অর্থ এমন চুক্তি যাহার অধীন কোন কাজে মূলধনের এক
অংশ ইসলামী [শরীয়াহ] মোতাবেক
পরিচালিত কোন ব্যাংক
এবং অপর অংশ
গ্রাহক যোগান দেয়
এবং যে কাজের লাভ চুক্তিতে
উল্লিখিত অনুপাতে এবং লোকসান মূলধন অনুপাতে বণ্টিত হয়;]
৫. ব্যাংক কম্পানী আইনের সাথে ব্যাংক
কম্পানীর সংঘ স্মারকের অসামঞ্জস্য বিধানাবলীর গ্রহণযোগ্যতা!
ধারা ৬ এর (ক, খ) অনুযায়ী
[বিশেষায়িত] ব্যাংক ব্যতীত, কোন ব্যাংক-কোম্পানীর মেমোরেন্ডাম ও
আর্টিকেলস্, উহার সম্পাদিত কোন চুক্তি,
বা উহার সাধারণ সভায় বা পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত কোন প্রস্তাবে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,
এবং উহা এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে বা পরে,
ক্ষেত্রমত, রেজিষ্ট্রিকৃত বা সম্পাদিত বা গৃহীত হউক বা হইয়া থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হইবে,
এবং
উক্ত
মেমোরেন্ডাম, আর্টিকেলস্, চুক্তি বা প্রস্তাবের কোন বিধানের যতটুকু এই আইনের
সহিত অসামঞ্জস্য থাকিবে উক্ত বিধানের ততটুকু অবৈধ
হইবে৷
উপস্থাপনায়ঃ ব্যাংকিং ইনফো বিডি- বিআইবি
No comments